ভেনিজুয়েলা থেকে মার্চে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি কমেছে আগের মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। শিপিং ডাটা ও বিভিন্ন নথি থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে জ্বালানি তেলবাহী কার্গো সরবরাহে বিলম্ব এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি জ্বালানি পণ্য রফতানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। খবর রয়টার্স।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে ঘোষণা দেয়, ভেনিজুয়েলার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এটি চলতি সপ্তাহ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এ ঘোষণার পর বিদেশী অংশীদারদের জন্য দেয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স বাতিল করেছে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ছিল ভেনিজুয়েলার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। এর আগে মার্কিন জ্বালানি তেল কোম্পানি শেভরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল, যা ভেনিজুয়েলায় উত্তোলন ও যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির অনুমতি দিত। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কোম্পানিগুলোকে ২৭ মে পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম ও রফতানি বন্ধ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
ভেনিজুয়েলা চীন ও ভারতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি করে। এ দুটি দেশেও মার্চের শেষ ও এপ্রিলে সরবরাহের কিছু চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। জানা গেছে, মার্চে ভেনিজুয়েলা থেকে মোট ৪২টি জাহাজের মাধ্যমে ৮ লাখ ৪ হাজার ৬৭৭ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এতে ৩ লাখ ৪১ হাজার টন জ্বালানি তেলজাত পণ্য ও পেট্রোকেমিক্যালসও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মার্চে রফতানির গড় হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কম এবং এটি ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন।
ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মঙ্গলবার এক টেলিগ্রাম পোস্টে রয়টার্সের প্রকাশিত তথ্যকে ভুল বলে দাবি করেন। তিনি জানান, মার্চে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে তিনি এ-সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য দেননি।